প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সঞ্চয়পত্রের প্রকারভেদ: বর্তমানে ৪ প্রকার সঞ্চয়পত্র প্রচলিত রয়েছে।
×
১. তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র (৩ বছর মেয়াদি)
২. পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিনিয়োগের সুযোগ আছে)
৩. পেনশনার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)
৪. পরিবার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)
Ezoic
সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের যোগ্যতা
সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিচের যোগ্যতা মানতে হবে
×
Ezoic
ক) একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি
খ) একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি
গ) দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি যৌথনামে
ঘ) নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের পক্ষে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক
১. একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অথবা
২. যৌথভাবে দুজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক
৩. তিনি নিজে এবং একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক যৌথভাবে
৪. যেকোনো মানসিক বিকারগ্রস্ত/ উন্মাদ-এর অভিভাবক বা আদালত হিসেবে নিয়োজিত ব্যবস্থাপক হিসেবে।
৫. যেকোনো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বিচারপতিরা নিজ নামে এবং পারিবারিক পেনশনের আওতায় তার স্বামী/স্ত্রী/সন্তানরা পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারেন।
৬. শুধুমাত্র ১৮ (আঠার) এবং তদূর্ধ্ব বয়সের যেকোনো মহিলা শুধুমাত্র একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন।
৭. নাবালকের পক্ষে শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদি ও ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই।
সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সীমা
ক. তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক ও পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ও যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা।
খ. পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা।
গ. পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা।
ঘ. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ (শুধুমাত্র পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র)-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা। স্বয়ংক্রিয় পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এ ধরনের বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ১০ লাখ টাকা।
সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সময় যা যা লাগে
সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সময় ক্রেতা ও নমিনির ২ কপি করে সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। ক্রেতা নমিনির ছবি সত্যায়িত করবেন এবং ক্রেতার ছবি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। এ সময় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও তার নম্বর ক্রয় ফরমে লিখতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পাসপোর্ট অথবা জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদর্শন ও সেগুলোর নম্বর ক্রয় ফরমে উল্লেখপূর্বক সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে।
সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে, পুড়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে করণীয়
সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে ক্রেতা সঙ্গে সঙ্গে তার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে পেমেন্ট বন্ধ রাখার জন্য ইস্যুইং অফিসে আবেদন করবেন। অতঃপর নিম্নলিখিত কাগজপত্রসহ ডুপ্লিকেট ইস্যুর জন্য আবেদন করবেন।
# জিডি এন্ট্রির কপি
# ২টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তির কাটিং
# ১৫০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের প্রদেয় হলফনামা
# ১৫০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ইনডেমনিটি বন্ড
# ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যমানের প্রতিটি স্ক্রিপটের ক্ষেত্রে চালানের মাধ্যমে ডুপ্লিকেট ইস্যুর জন্য স্ক্রিপটপ্রতি ৫ টাকা হারে ফি জমা দিতে হবে।
# আবেদনপত্র জমার এক মাস পর ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়।
সঞ্চয়পত্রে পুনর্বিনিয়োগ সুবিধা
শুধুমাত্র পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র-এ মেয়াদপূর্তির পর মেয়াদপূর্তির তারিখ হতে শুধু পরবর্তী এক মেয়াদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা আছে। এ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত মুনাফাসহ মূল টাকা পুনর্বিনিয়োগ হবে।
# এক বছর মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করলে কোনো ধরনের মুনাফা পাওয়া যাবে না। তবে নির্ধারিত মেয়াদপূর্তির আগে ২য়, ৩য়, ৪র্থ বছরে নগদায়ন করলে কিছুটা কম মুনাফা পাওয়া যাবে।
যেসব অফিস হতে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যায়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা অফিস, তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলো, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো অফিস ও ডাকঘর হতে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যায়।
পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের যোগ্যতা
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের যেকোনো মহিলা একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারেন।
সঞ্চয়পত্রে আয়কর রেয়াত
৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ২৫ শতাংশ আয়কর রেয়াত পাওয়া যায়।
সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার মৃত্যু হলে করণীয় কী?
সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনি সঙ্গে সঙ্গে অথবা মেয়াদপূর্তির পর মুনাফাসহ সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে নিতে পারে।
রিটার্ন ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে
মধ্যবিত্তের কথা চিন্তা করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনায় বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই সুবিধা দেওয়া হয়। এরপর জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।


