প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
রাজধানীর শাহ আলীর দিয়াবাড়ি এলাকার একটি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট থেকে কলেজ শিক্ষার্থী সুদীপ্ত রায়ের (১৭) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার ভোরে তার লাশ পাওয়া যায়। ৭ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিল সুদীপ্ত। ওই রাতেই তার মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ভাটারা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ক্যামব্রিয়ান কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল সুদীপ্ত; থাকত কলেজ হোস্টেলে। ৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর বাবা হিমাংশু কুমার রায় ভাটারা থানায় নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ দেন। সেটি তদন্তের সূত্র ধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ৩ নভেম্বর দিয়াবাড়ী এলাকার নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় দুই শিক্ষার্থী সাবলেট নেন। ভবনের ওই ফ্ল্যাটেরই নির্মাণ শেষ হয়েছে। দুই শিক্ষার্থী ৮ নভেম্বর ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। গতকাল ভোরে ঘরটি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে ফ্ল্যাটের ভাড়াটে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দরজার তালা ভেঙে ঘরসংলগ্ন বাথরুমে সুদীপ্তর অর্ধগলিত লাশ পায়। এরপর পুলিশ সাবলেটের ফ্ল্যাটের ভাড়াটের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
ভাটারা থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আব্দুল্লাহ (২২) ও জুনায়েদ দেওয়ান (২২)। টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনই ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করে ঢাকায় চাকরির জন্য এসে ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। আব্দুল্লাহর বাড়ি ঠাকুরগাঁও; সুদীপ্তও একই এলাকার হওয়ায় আগে থেকেই পরিচয় ছিল। সেই সূত্র ধরে গত শুক্রবার বিকেলে তিনি সুদীপ্তকে দিয়াবাড়ির ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনি রাতে কৌশলে সুদীপ্তর মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। সুদীপ্ত ঘুমানোর পর তিনিসহ দুজন পরিবারের কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান।
পরদিন সকালে সুদীপ্ত নিজের ফোন খুঁজে পাচ্ছিল না। একপর্যায়ে তিনি আব্দুল্লাহ ও জুনায়েদের কাছ থেকে জোর করে ফোন নিয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলেন। তার বাবা রাতে মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টি জানান। এ নিয়ে ওই দুজনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় সুদীপ্তর। একপর্যায়ে তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন আব্দুল্লাহ। পরে তাকে আরও আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। শেষে লাশ গুম করতে না পেরে তারা পালিয়ে যান।


