Sunday, July 12, 2026
spot_img
Homeমুল পাতাছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসেই কমবে কিডনি রোগের ঝুঁকি

ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসেই কমবে কিডনি রোগের ঝুঁকি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি প্রতিদিন রক্ত পরিশোধন, শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং পানি, লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কিডনির রোগ অনেক সময় শুরুতে কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। এ কারণেই চিকিৎসকেরা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগকে ‘নীরব ঘাতক’ বা ‘সাইলেন্ট ডিজিজ’ বলে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি বিকলের পেছনে শুধু বড় কোনো রোগ নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাসও দায়ী। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ (পেনকিলার) সেবন করলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে এবং কিডনির সূক্ষ্ম নালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই অসুস্থদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।

এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির রক্তনালিগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত লবণ, প্রসেসড ও ফাস্ট ফুড খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং শরীরচর্চার অভাবও কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত দেড় থেকে দুই লিটার বা ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করা উচিত। গরমের সময় বা ব্যায়ামের পর আরও বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে পানিশূন্যতা, কিডনিতে পাথর এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ঘুমের অভাবও কিডনির জন্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার কম বা ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমানো ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বেশি। তাই প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্রাবের রঙ বা পরিমাণে পরিবর্তন, হাত-পা বা চোখ ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা কিংবা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ধূমপান-অ্যালকোহল পরিহার করলে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বছরে অন্তত একবার রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করানো উচিত।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়