Wednesday, July 1, 2026
spot_img
Homeসংবাদসড়কে নিহত ৫১ শতাংশই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি

সড়কে নিহত ৫১ শতাংশই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ হাজার ৯৫৪ জন প্রাণ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি। তাদের দাবি, সড়কে নিহতদের ৫১ শতাংশই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। আবার অনেক পরিবার ক্ষতিপূরণের বিষয়টাও জানেন না।

শনিবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

মোজাম্মেল হক জানান, প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন। প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ১২ হাজারের বেশি ১৭ বছরের কম বয়সি শিশু। দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রভাব পড়ছে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক ক্ষতি হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত জিডিপির ক্ষতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ, আহত রোগীকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ই-ট্রাফিকিং সিস্টেম চালু করা গেলে সড়কে দুর্ঘটনা ৮০ শতাংশ কমে আসবে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার থাকলেও সড়ক নিরাপত্তায় দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে রোড সেইফটি ইউনিট গঠিত হলেও মূলত তারা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তাদের কোনো গবেষণা কার্যক্রম করেনি। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে নানা ইউনিট ও প্রতিবছর ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনার মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষায় কোনো বাজেট নেই।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য মিলেছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সড়কে প্রতিদিন ৬৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজারের বেশি ১৭ বছরের কম বয়সি শিশু। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ২২০ জন মানুষ প্রতিবন্ধী হচ্ছে কেবল সড়ক দুর্ঘটনায়।

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সারা বিশ্বে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ লাখ মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশে মারা যায় ২৪ হাজার ৯৫৪ জন। সংস্থাটির তথ্যমতে, হতাহতদের ৬৭ শতাংশই ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি। এক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি। সংস্থাটি দাবি করছে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত জিডিপির ক্ষতি ৫.৩ শতাংশ।

 

যাত্রীকল্যাণ সমিতির অন্য দাবিগুলো হলো— সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের জানাতে এই তহবিলে আবেদনের বিষয়ে থানা, হাসপাতাল ও বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুর্ঘটনায় মামলার ক্ষেত্রে স্পটে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির আবেদন জমাদানের সময়সীমা দুর্ঘটনার তারিখ থেকে ১ মাসের পরিবর্তে ন্যূনতম ১ বছরের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ রাখা। তহবিলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

মালিক শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের আর্থিক সহায়তা তহবিলে বাস মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সিসি ক্যামেরা পদ্ধতিতে ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন সিস্টেম চালু করা। চালক ও মালিকের ব্যাংক হিসাব থেকে অটো জরিমানা আদায়ের পদ্ধতি চালু করা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়