প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জিতে নিল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ২০১০ সালের পর প্রথম শিরোপা জিতল তারা।
গোটা ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে কার্যত বোতলবন্দি করে রেখেছে স্পেন। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স এতটাই হতশ্রী ছিল যে ১১৬ মিনিটের আগে তারা গোলের উদ্দেশে একটি শটও নিতে পারেনি। শেষপর্যন্ত মেসির নেওয়া সেই প্রথম শটও আটকে যায় স্প্যানিশ রক্ষণে।
বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে পরপর দুবার বিশ্বকাপ ধরে রাখার যে স্বপ্ন আর্জেন্টিনা দেখেছিল, তা-ও শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড তোরেস।
১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস হেড করে বল বাড়ান তোরেসকে। খুব কাছ থেকে গোল করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
ছবি: এপি
ততক্ষণে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কুবার্সিকে কড়া ট্যাকল করে বসেন চেলসির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেস। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং তার ফলশ্রুতিতে লাল কার্ড দেখানো দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত তোরেসে বলেন, ‘এই গোল (স্পেনের) ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের।’
নিউ জার্সির ফাইনালে আগাগোড়া দাপট দেখিয়েছে স্পেন। একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও দীর্ঘক্ষণ তা কাজে লাগাতে পারছিল না তারা।
পুরো ম্যাচে অনেক সুযোগ তৈরি করেছে স্পেন, তবে গোল আসছিল না। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একাই ১১টি সেভ করেন, বিশ্বকাপের ফাইনালে যা রেকর্ড।
৩৯ বছর বয়সি মেসি এদিন প্রথম ফুটবলার হিসাবে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম একাদশে মাঠে নেমে ইতিহাস ইতিহাস গড়েছেন। পাশাপাশি ফাইনালের প্রথম একাদশে থাকা প্রবীণতম আউটফিল্ড খেলোয়াড়ও হলেন তিনি।
এবারের আসরে আটটি গোল করেছেন মেসি। তবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের (১০ গোল) চেয়ে দুই গোলে পিছিয়ে থাকলেন তিনি।
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসাবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। মেসিও লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে বিপাকে ফেলতে ব্যর্থ হন।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। আগে যেকোনো চ্যাম্পিয়ন দলের চেয়ে বেশি ম্যাচ (আটটি) খেলেও এত কম গোল খাওয়ার নজির কোনো বিশ্বকাপজয়ী দলের নেই। এই জয়ের ফলে ৬৫ বছর বয়সি দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বকাপের ইতিহাসে শিরোপাজয়ী প্রবীণতম কোচ হিসেবে নজির গড়লেন।
দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৮টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও গড়ল স্পেন (২৯ জয়, ৯ ড্র, ০ হার)। এর ফলে পুরুষদের জাতীয় দল হিসেবে টানা অপরাজিত থাকার ক্ষেত্রে ইটালির (২০১৮-২১) রেকর্ড ভেঙে দিল তারা।
ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন থাকা অবস্থায় তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। এর আগে ২০০৮-১০ সালের স্পেন দল ও ১৯৭২-৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল।
এটি ছিল ৪৮ দলের এই মেগা বিশ্বকাপের ১০৪তম এবং শেষ ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ছিল ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপ। আগের যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি ম্যাচ হওয়ায় গোলের সংখ্যাও ছিল অন্যান্য সব আসরের চেয়ে বেশি—রোববারের ফাইনালের আগে পর্যন্ত মোট ৩০৭টি গোল হয়েছে।
মেক্সিকোর দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের এই দিনে গ্যালারিতে স্পেনের ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের পুনর্মিলনী বসেছিল।


